মেনু নির্বাচন করুন

শিশু আইন

শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী, এখন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু বলে গণ্য করা হবে.


একনজরে শিশু আইন

 

প্রবেশন কর্মকর্তা: এ আইনের আওতায় মেট্রোপলিটন, জেলা ও উপজেলা এলাকায় একাধিক প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ করবে সরকার।

শিশুকল্যাণ বোর্ড: শিশুদের উন্নয়নে গঠিত জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। সদস্যসচিব থাকবেন সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। আইনের বিধানমতে, সব জেলা ও উপজেলায় শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে। জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা বোর্ডের সভাপতি হবেন।

শিশুবিষয়ক ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিটি থানায় কমপক্ষে উপপরিদর্শক (এসআই) ও এর ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে এই ডেস্ক গঠন করবে। সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে, তা যে আইনেই হোক না কেন, ওই মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু আদালতের থাকবে। প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে শিশু অধিকার ডেস্কের নিয়োজিত কর্মকর্তার দায়িত্ব কী হবে, তা-ও বলা হয়েছে আইনে।

 

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের একসঙ্গে অভিযোগপত্র নিষিদ্ধ: ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৯ অথবা যে আইনে যা-ই থাকুক না কেন, শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর সঙ্গে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে না।

শিশু আদালত: শিশুর অপরাধ বিচারে জেলা সদরে ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে একটি শিশু আদালত থাকবে।

গ্রেপ্তার: এই আইনের বিধানমতে, নয় বছরের নিচের কোনো শিশুকে কোনো অবস্থায়ই গ্রেপ্তার করা বা আটক রাখা যাবে না। নয় বছরের বেশি কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হলে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি পরানো যাবে না। এ ছাড়া যেকোনো মামলায় শিশুকে জামিন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

 

শিশুসংক্রান্ত বিশেষ অপরাধের দণ্ড: নতুন আইনে শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বন্ধ করতে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শিশুকে নেশাগ্রস্ত করলে এক বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, মাদক ও বিপজ্জনক ওষুধ সরবরাহ করলে তিন বছরের জেল এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখালে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার বন্ধে শাস্তি: আইনের ৭৯ ধারায় শিশুদের দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ বস্তু বহন এবং সন্ত্রাসী কাজ সংঘটনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই ধারায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি শিশুর প্রকৃত দায়িত্বসম্পন্ন বা তত্ত্বাবধানকারী হোক বা না হোক, শিশুকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় উল্লিখিত কোনো সন্ত্রাসী কাজে নিয়োজিত করলে বা ব্যবহার করলে তিনি স্বয়ং ওই সন্ত্রাসী কাজ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং তিনি ওই ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

শিশুকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ: বিচারাধীন কোনো মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী এমন কোনো প্রতিবেদন, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, যার দ্বারা শিশুকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়। এ বিধান লঙ্ঘন করলে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।